জাল সনদ দিয়ে বেসরকারি কলেজে চাকরি করার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলার ৬৩ জন শিক্ষককে শুনানিতে তলব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ (এমপিও) বাতিল বা স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী ২৬ জুলাই থেকে এই শুনানি শুরু হবে।
বুধবার মাউশির কলেজ শাখা-৩ (বেসরকারি কলেজ) থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শফি মাহমুদ।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে অভিযুক্ত এই শিক্ষকদের জাল সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়। এরপর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও বেশিরভাগেরই জবাব সন্তোষজনক ছিল না, আবার কেউ কেউ কোনো জবাবই দেননি। এ কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সরাসরি শুনানি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মাউশি।
‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’-এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও কেন বাতিল বা স্থগিত করা হবে না, সে বিষয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর ১৬ আবদুল গনি রোডে অবস্থিত শিক্ষা ভবনে মাউশির পরিচালকের (কলেজ ও প্রশাসন) কার্যালয়ে (কক্ষ নম্বর-৩১৭) নির্ধারিত তারিখে প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুনানি হবে, যা শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে চলবে আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে সশরীরে হাজির থাকতে হবে। এ সময় ডিআইএর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযুক্ত শিক্ষকের মূল সনদ এবং নিয়োগ ও যোগদান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের দুই সেট অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে পদত্যাগ, অপসারণ, জাতীয়করণ, বরখাস্ত বা মৃত্যুবরণ করে থাকলে সে সংক্রান্ত সরকারি দাপ্তরিক প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ৬৩ জনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার বেসরকারি কলেজের রসায়ন, কম্পিউটার, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল, দর্শন, অর্থনীতি, পদার্থবিদ্যা ও আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক, প্রদর্শক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক রয়েছেন। শুনানিতে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিল বা স্থগিতসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
