দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)। প্রায় এক বছর ধরে চালানো তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে প্রচলিত টুথপেস্টের ৭৫ শতাংশেরও বেশিতে রয়েছে বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পরীক্ষা করা মোট নমুনার মধ্যে আটটি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
এসডোর গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে ১৯টি পরিচিত ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ২৬টি নমুনায় বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হলেও, বাকি আটটি টুথপেস্ট উপাদানগত বিশ্লেষণে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত প্রমাণিত হয়েছে।
যে ৮টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি
দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো ফ্লেভার) এবং ক্লোজ-আপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি সংস্করণে কোনো প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভারতে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত চারটি টুথপেস্ট—প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ এবং কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট—একই তালিকায় জায়গা পেয়েছে। তালিকার শেষ নামটি থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা শিশুদের জন্য তৈরি কোডোমো অরেঞ্জ, যেটিও পরীক্ষায় প্লাস্টিকমুক্ত প্রমাণিত হয়েছে।
কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের দাঁত মাজার সময় অসাবধানতাবশত এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে এসডো। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এসব কণা পাকস্থলীর সমস্যা ও হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে। এ কারণেই যাচাইকৃত ও নিরাপদ প্রমাণিত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এই গবেষণার ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও দাখিল হয়েছে, যাতে পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
