প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সারাদেশে যেসব পরীক্ষার্থী বৈরি আবহাওয়ার কারণে এই পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারা পুনরায় নিবন্ধন করে ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ নিয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে এবং একই সঙ্গে পুনঃনিবন্ধনের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নির্দেশনা সংবলিত বিস্তারিত নীতিমালাও প্রকাশ করা হবে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার অবশিষ্ট অংশ নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে পরীক্ষা পুনরায় শুরুর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন বিদ্যমান, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরই নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগে দুর্ভোগের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছিল। একই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট বিষয়গুলোও স্থগিত করা হয়েছিল।
তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলো ছাড়া অন্যান্য সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ীই চলছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন, যাদের জন্য মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, ৩ লাখ ৩৯৩ জন, এরপর রয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।
