ঢাকা, এখন সময় মিনিট
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যম
  8. ছোটদের পোস্ট
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. প্রবাস
  13. প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. মতামত

পে স্কেল বাস্তবায়ন পেছানোর পরামর্শ আইএমএফের, রাজি নয় সরকার

Dhaka
July 21, 2026 10:21 pm
Link Copied!

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তাদের যুক্তি, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এই বড় ব্যয় সামলানো কঠিন হতে পারে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকেরা এই পরামর্শ মানতে নারাজ—তাঁদের ভাষ্য, বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ এখন আর নেই।

সম্প্রতি আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকং মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফর করে। এই সফরে তারা অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নতুন বেতন কাঠামোর অগ্রগতি ও এর সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি, অথচ এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়েছে। এ কারণেই নতুন পে স্কেলকে এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে সরকার।

তবে আইএমএফের মূল উদ্বেগ ভিন্ন জায়গায়—নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি চালু করতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ই তাদের জানিয়েছে। বাংলাদেশ যখন সংস্থাটির সঙ্গে নতুন ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই এত বড় বাড়তি ব্যয় সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ ফেলতে পারে এবং ঋণনির্ভরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে—এমনটাই মনে করছে আইএমএফ।

এই ঝুঁকি সামলাতে সরকার অবশ্য পুরো ব্যয় একবারে না করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে শুরুতেই আর্থিক চাপ তীব্র না হয়। অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, আইএমএফ সরাসরি পে স্কেল বাতিল বা স্থগিত করতে বলেনি, বরং এর অর্থায়নের উৎস ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে মাত্র।

প্রসঙ্গত, সরকারের নিজস্ব বিশ্লেষণেই উঠে এসেছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে স্কেল চালুর সময়ও একই রকম পরিস্থিতি হয়েছিল, যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি থাকায় এবারের প্রভাব কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণপত্র তৈরি করে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের কাছে উপস্থাপনও করেছে অর্থ বিভাগ।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে, আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা এখন কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়—যেহেতু বাজেটে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়ে গেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।