সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সোমবার রাত থেকে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হলে দলীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া দিতে এগিয়ে আসেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান। তিনি জানান, তাঁদের ধারণামতে ভিডিওটি রাজধানীর একটি বাসাবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ থেকে বাইরে চলে এসেছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে সংবাদমাধ্যম যোগাযোগ করলে প্রথমে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, জানান পরে বক্তব্য দেবেন। এর কিছুক্ষণ পরই নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক পোস্টে পুরো ঘটনার একটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর দুই স্ত্রী—প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে যান, যেখানে অবস্থিত তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়। সেখানে তাঁরা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সময় কাটান।
এমপির অভিযোগ অনুযায়ী, এই সময়ে মাসুম বিল্লাহর গাড়িচালক তথা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি পরীক্ষার অজুহাতে বাইরে যান এবং কিছুক্ষণ পর ৫-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এমনকি পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবহৃত ভাড়া গাড়িটিও আটকে রেখে দফায় দফায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়, আর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের হুমকির মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পুরনো পারিবারিক শত্রুতা ও বিরোধের জেরেই এই পুরো ঘটনা সাজানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতেই ওবায়দুল্লাহ গোপনে তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করার প্রচেষ্টাকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে এমপি আরও জানান, গত ১৭ জুন পারিবারিক সিদ্ধান্তে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এটি কোনো গোপন বা অবৈধ সম্পর্ক নয় বলে তাঁর দাবি।
পোস্টের শেষে তিনি এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
