রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়তে যাচ্ছেন বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি দু-একদিনের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁর অধস্তন কর্মীদের কাছে শিগগির বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তাঁর পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে এবং এ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চললেও এতদিন সরকার বা ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি। তবে সাম্প্রতিক সূত্রমতে, সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে এখন নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে বিলম্ব হলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের একজনকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে বিএনপি। যেহেতু পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়ে এখনো বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি; পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
